৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ - রমজানের ৩০ দিনের ৩০টি ফজিলত সম্পর্কে জানুন

২০২৫ সালের রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচিএকজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যই আমাদেরকে ৩০ রোজার ফজিলত দলিলসহ এবং রমজানের ৩০ দিনের ৩০ টি ফজিলত সম্পর্কে জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা রমজান মাস হল এমন একটা মাস যা ইসলামের এক বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। মূলত এই মাসে সকল মুসলমান সিয়াম বা রোজা পালন করে থাকেন, আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য।

মহান আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নামাজের দরজা খুলে দেন। যা মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও পূরণের পথ সুগম করে। তাই আজকে আপনাদের সুবিধার্থে ৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ এবং রমজানের ৩০ দিনের ৩০ টি ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। চলুন তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে আজকের মূল আলোচনা শুরু করা যাক।

সূচিপত্র: ৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ - রমজানের ৩০ দিনের ৩০টি ফজিলত সম্পর্কে জানুন

৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ

রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখার ফজিলত ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক নেকীর কাজ। এই রমজান মাসেই মূলত পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছিল, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং স্পষ্ট নির্দেশনা বলি ও সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য প্রদর্শনকারী একটি কিতাব। রোজা রাখাটা শুধুমাত্র কিন্তু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়, বরঞ্চ এটি আত্মিক পরিশুদ্ধ এবং নফসের নিয়ন্ত্রণ করার একটি মাধ্যম। মহান আল্লাহতালা এই মাসে অর্থাৎ রোজার মাসে প্রত্যেকটি মুমিন বান্দাদের রোজা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে প্রত্যেক মুসলমানগণ তাকওয়া অর্জন করতে পারে।

৩০ টি রোজার বিশেষ ফজিলতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোজা পালনকারী বান্দা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ রহমতের অধিকারী হন। এছাড়াও রোজা রাখার কারণে একজন মুসলিমের শরীর, মন ও আত্মার শান্তি লাভ করে এবং বান্দা পাপ থেকে বিশেষভাবে দূরে থাকার চেষ্টা করে। সুতরাং ৩০ টি রোজা রাখার ফজিলত ইসলামিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের ৩০ রোজার ফজিলত সম্পর্কে মহা-গ্রন্থ আল কুরআন এবং হাদিসে বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। আসুন তাহলে ৩০ রোজার ফজিলত দাখিলসহ জেনে নেই।

আরও পড়ুন: ২০২৫ সালের রমজান কত তারিখে শুরু হবে

নিচে কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে পবিত্র রমজান মাসের ৩০ রোজার ফজিলত তুলে ধরা হলো- আপনারা সবাই মনোযোগ সহকারে পড়ে নেবেন।

১. রমজান মাসের গুরুত্ব ও রোজার ফজিলত কুরআনের দলিল

  • মহান আল্লাহতালা বলেছেন: রমজান মাস এমন একটি মাস এই মাসে পবিত্র কোরআন নাযিল করা হয়েছে। মানুষের জন্য পথনির্দেশ ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও ফয়সালারূপে। অতএব তোমাদের মধ্য যে এই মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে। (সূরা আল- বাকারা: ১৮৫) 

২. প্রত্যেকটি নেক আমলের বহু গুণ সওয়াব

  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: প্রতিটি মানুষের সৎ কর্মের প্রতিদান ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: রোজা শুধুমাত্র আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো। (সহিহ বুখারী: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)
৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়
  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: যখন রমজান মাস শুরু হয়, তখন জান্নাতের দরজা গুলো খুলে দেওয়া হয়, এবং জাহান্নামের দরজা গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (সহিহ বুখারী: ১৮৯৯, সহিহ মুসলিম: ১০৭৯)
৪. রোজা গুনহা মোচনের মাধ্যম
  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারী: ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)
৫. রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজা (রাইয়ান)
  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যার নাম হল (রাইয়ান)। কিয়ামতের দিন রোজাদারদের এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করানো হবে। আর তাদের ছাড়া অন্য কাউকে এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করানো হবে না। (সহিহ বুখারী: ১৮৯৬, সহিহ মুসলিম: ১১৫২)
৬. দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সুযোগ
  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: তিন ব্যক্তির দোয়া কখনই প্রত্যাখ্যান হয় না ১, ন্যপরায়ণ শাসকের ২, রোজাদারের ইফতারের সময় ৩, মজলুমের (অত্যাচারিত ব্যক্তির)। (তিরমিজি: ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)

৭. রমজানের শেষ ১০ রাতের বিশেষ ফজিলত (লাইলাতুল কদর)

  • মহান আল্লাহতালা বলেছেন: লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।
  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর উপলব্ধি করে ইবাদত করবে সেই ব্যক্তির পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহিহ বুখারী: ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)

৮. রোজাদারের জন্য ২টি আনন্দ

  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: রোজাদারদের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে সেটি হল ইফতারের সময় আরেকটি হল যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। (সহিহ বুখারী: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)

রমজানের ৩০ দিনের ৩০টি ফজিলত

রমজান হচ্ছে ফার্সি শব্দ, অর্থাৎ কোরআনের ভাষায় রমজানকে আরবিতে সাওম বলা হয়, যার বাংলা অর্থ সংযম, উপবাস। রোজার সংজ্ঞা হলো-সুবাহে সাদেক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পাপাচার যৌনসঙ্গম এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ বিলাস থেকে বিরত থাকার নাম হল রোজা। রোজার মাসের ফজিলত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহতালা পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় নম্বর সূরা আল বাকারায় এরশাদ করেন, রমজান এমন একটি মাস যে মাসে কোরআন নাযিল করা হয়েছে। রমজানের ফজিলতের বর্ণনা সূরা  ক্বদরেও রয়েছে। যেমন- রমজানে লাইলাতুল কদর নামে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

রমজানের ৩০ রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে উল্লেখ করে রমজানের ৩০ দিনের ৩০ টি ফজিলত সম্পর্কে কোন বর্ণনার কথা পাওয়া যায়নি। যদিও আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটে স্বতন্ত্রভাবে বলা হয়েছে যে প্রত্যেকটি রোজার জন্য আলাদা আলাদা করে ফজিলত রয়েছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াটে এবং ভিত্তি বর্ণনা।

তাই আজকের এই পোষ্ট থেকে আমরা এই সকল বিষয়গুলি সঠিকভাবে জানবো এবং সেই সাথে প্রচলিত যেই বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন কথাগুলো বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার একটা নমুনা আপনাদের দেখাবো। আর এর মাধ্যমে সত্যি মিথ্যার পার্থক্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। (ইনশাল্লাহ)

আরও পড়ুন: প্রতিদিন কি পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে ৩০ রোজার ৩০ টি স্বতন্ত্র ফজিলতের যে সকল কথা বলা হয়েছে তার একটি হুবহু লিস্ট নিচে দেওয়া হল। তবে এই লিস্টটি দেওয়ার মানে হলো আপনারা যখন ৩০ রোজার ৩০ টি স্বতন্ত্র  ফজিলতের কথা শুনবেন তখন নিশ্চয়ই সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। চলুন তাহলে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারকে নবজাতকের মত নিষ্পাপ করে দেওয়া হয়।

২. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারের মা- বাবাকে মাফ করে দেওয়া হয়।

৩. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- একজন ফেরেশতা আবারও রোজাদারের ক্ষমার ঘোষণা দেয়।

৪. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- আসমানী বড় বড় চার কিতাবের বর্ণ সমান সওয়াব প্রদান করা হয়।

৫. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- মক্কা নগরীর মসজিদে হারামে নামাজ আদায়ের সওয়াব দেওয়া হয়।

৬. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- ফেরেশতাদের সাথে ৭ম আকাশে অবস্থিত বাইতুল মামূর তাকওয়াফের সওয়াব প্রদান করা হয়।

৭. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- ফেরাউনের বিরুদ্ধে মূসা (আঃ) এর পক্ষে সহযোগিতা করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

৮. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারের উপর হযরত ইব্রাহিম (আ:) এর মত রহমত বর্ষিত হয়।

৯. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- নবী-রাসূলদের সাথে ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

১০. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারকে উভয় জাহানের কল্যাণ দান করা হয়।

১১. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারের মৃত্যু নবজাতকের ন্যায় নিষ্পাপ নিশ্চিত হয়।

১২. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- হাশরের ময়দানে রোজাদারের চেহারা পূর্ণিমা চাঁদের মত উজ্জ্বল করা হবে।

১৩. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- হাশরের ময়দানের সকল বিপদ থেকে নিরাপদ করা হবে।

১৪. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- হাশরের ময়দানে হিসেব সহজ করা হবে।

১৫. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- সমস্ত ফেরেস্তারা রোজাদারের জন্য দোয়া করে।

১৬. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- আল্লাহতালা রোজাদারকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি গ্রহণ করেন।

১৭. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- একদিনের জন্য নবীগণের সমান সওয়াব দেওয়া হবে।

১৮. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদার এবং তার মা- বাবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্ট সংবাদ দেওয়া হয়।

১৯. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- পৃথিবীর সকল পাথর- কংকুর -টিলা টংকর রোজাদারদের জন্য দোয়া করতে থাকে।

২০. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- আল্লাহতালার পথে জীবনদানকারী শহীদদের সমান সওয়াব প্রদান করা হয়।

২১. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি উজ্জ্বল প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়।

২২. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- হাশরের ময়দানের সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করা হয়।

২৩. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- জান্নাতে একটি শহর নির্মাণ করা হয়।

২৪. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- রোজাদারদের যেকোনো ২৪ টি দোয়া কবুল করা হয়।

২৫. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- কবরের শাস্তি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২৬. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- ৪০ বছর ইবাদতের সমান সওয়াব প্রদান করা হয়।

২৭. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে দেওয়া হয়।

২৮. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়।

২৯. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- এক হাজার কবুল হজের সওয়াব প্রদান করা হয়।

৩০. নাম্বার রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- পুরো রমজানের ফজিলত দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়।

তবে উপরে যে বিষয়গুলি সম্পর্কে বলা হয়েছে, মূলত সেগুলো অর্থাৎ রমজানের ৩০ দিনের ৩০ টি ফজিলতের বর্ণনা কোন হাদিসই নেই। যারা এভাবে বর্ণনা করেন যে, রমজানের অমুখ তারিখের অমুখ ফজিলত রয়েছে, তাদেরকে যদি বলা হয় রেফারেন্সসহ অর্থাৎ প্রমাণ সহ রমজানের ৩০ হাজার ৩০ টি ফজিলত সম্পর্কে বলার জন্য, তখন নিশ্চয়ই তারা রেফারেন্স অর্থাৎ প্রমাণসহ এই বিষয়গুলি দেখাতে পারবেনা।

রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব

রমজান মাসে রোজার ফজিলত অনেক রকমের রয়েছে তা সত্ত্বেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত রয়েছে যেগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদেরকে অবশ্যই রমজান মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে খুবই ভালো ভাবে জানতে হবে। এমন অনেকেই রয়েছেন যারা রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন না। তাই তাদের সুবিধার্থে আমরা আজকের এই অংশে রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিতভাবে জানাবো। চলুন তাহলে রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে নেই।

ফরজ রোজা: প্রত্যেকটি রমজান মাসে একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য ৩০টি ফরজ রোজা পালন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মা সংযম: রমজান মাসে ৩০ টি রোজা পালন করার ফলে আমাদের আত্মশুদ্ধ হবে এবং আল্লাহর প্রতি ভীতি সৃষ্টি হবে।

দান খয়রাত: রমজান মাসে বেশি বেশি দান খয়রাত করলে প্রচুর পরিমাণে সওয়াব পাওয়া যায়।

কুরআন মজিদের মাস: এই রমজান মাসেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছিল।

লাইলাতুল কদর: মূলত রমজান মাসের শেষের দশকে একটি বিশেষ রাতের নাম হচ্ছে লাইলাতুল কদর, যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

পাপের ক্ষমা: একজন মুসলিম ব্যক্তি সারা বছর যে পাপ করেছে তা রমজান মাসে বেশি বেশি ইবাদত এবং ফরজ ৩০ টি রোজা পালন করার মাধ্যমে তা ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ।

জাহান্নাম থেকে মুক্তি: রমজান মাসে ৩০ টি রোজা পালন করার ফলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন এবং জান্নাত লাভ করার সুযোগ বেড়ে যাবে।

জান্নাত লাভ: রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে সেই দরজাটির নাম হচ্ছে (রাইয়ান)। আর এই দরজাটি রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য খুলে দেয়া হবে।

আত্মশুদ্ধি: রমজান মাসে ৩০ রোজা পালন করলে আমাদের আত্মশুদ্ধি হওয়ার একটি সুযোগ থাকে।

নামাজ: পবিত্র রমজান মাসে ফরজ সুন্নত এবং নফল নামাজ ভালোভাবে আদায় করতে হবে এবং সকল নামাজের প্রতি ভালো মনোযোগ দিতে হয়।

কোরআন তেলাওয়াত: রমজান মাসে রোজা পালন করার পাশাপাশি বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে।

দোয়া: রমজান মাসে বেশি বেশি করে আল্লাহতালার এবাদত করতে হবে এবং কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। এছাড়া আল্লাহর কাছে যেকোনো বিষয়ে প্রচুর পরিমাণে দোয়া করতে হবে।

দোয়া কবুল: রমজান মাসে ৩০ টি রোজা পালন করা এবং সকল ফরজ এবং নফল ইবাদত করে আল্লাহ তাআলার কাছে যে কোন দোয়া করলে তা কবুল হয়ে যাবে।

রোজার আয়াত ও হাদিস

রমজান মাসে রোজা রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই রমজান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। রোজা সম্পর্কে কোরআন হাদিসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে যদি আপনি ৩০ টি রোজা সঠিকভাবে ঈমানের সাথে পালন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই মহান আল্লাহতালা আপনার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। যে কোন মুসলিম ব্যক্তি সারা জীবনে অনেকগুলো পাপ করে থাকে তাই তো তারা রোজার মধ্যে বেশি বেশি হাদিস ও কোরআনের আয়াত গুলো পালন করে আর তখন তারা পাপমুক্ত হয় এবং অনেক সওয়াব পায়। চলুন তাহলে রমজান মাসের রোজার আয়াত ও হাদিস সম্পর্কে কিছু বিষয়ক জেনে নেওয়া যাক।

রমজান মাসে আগমন

  • জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।

রমজান মাসের রোজার ফজিলত

  • রমজান মাসের ফজিলত অনেক আমরা ইতিমধ্যে উপরের অংশগুলোতে রমজান মাসে ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি। আপনি চাইলে উপরের সেই বিষয়গুলি ভালোভাবে পড়ে নিতে পারেন।

রমজানের শেষের দশকে তাহাজ্জুদ

  • রমজান মাসের শেষের দশকে আমরা সকলেই বেশি বেশি করে তাহাজ্জুতের নামাজ সঠিকভাবে আদায় করব, তাহলে আমাদের জীবনে যত গুনাহ রয়েছে মহান আল্লাহতালা সব গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন।

রমজানের শেষ রাত

  • রমজানের শেষ রাতে অর্থাৎ রমজানের শেষের দশকে লাইলাতুল কদরের রাত রয়েছে এই রাত অনেক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই এই রাতে বেশি বেশি করে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা উচিত। তাহলে মহান আল্লাহতালা আমাদের জীবনে যত গুনা রয়েছে এগুলো সব মাফ করে দেবে।

রমজানের রোজা ভাঙ্গার ফজিলত

  • একজন মুসলিম ব্যক্তি যদি একজন রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করায় তাহলে তার জন্য রোজাদারদের সমপরিমাণ সওয়াব তাকে দেওয়া হয়।

নফল রোজার ফজিলত

নফল রোজার ফজিলত অনেক বেশি। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা নফল রোজার ফজিলত সম্পর্কে সঠিকভাবে জানিনা। তবে আমাদেরকে অবশ্যই নফল রোজার ইবাদত সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। সাধারণত অনেক মানুষ রয়েছেন যারা নফল রোজা পালন করেন প্রতি মাসে ১ থেকে ২ টা করে। আবার অনেকেই রয়েছেন প্রতি মাসে নফল রোজা অনেকগুলো করে পালন করে থাকে। তবে অনেকেই জানেন না যে নফল রোজার কি কি ফজিলত রয়েছে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আজকে আমরা নফল রোজার ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানাবো।

আরও পড়ুন: যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় - যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না 

মূলত নফল রোজা আমাদের বছরে কয়েকটি অথবা কিছু পরিমাণ রাখা উচিত। এর মাধ্যমে আমাদের রোজা করার অভ্যাসটাও থাকবে এবং অনেক সওয়াব পাব। এছাড়াও বিশেষ করে পাপ থেকে মুক্তি পেয়ে যাব। তাই তো আমাদেরকে অবশ্যই নফল রোজা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখতে হবে। আসুন তাহলে এবার নফল রোজার ফজিলত সম্পর্কে জেনে নেই।

  • নফল রোজা করলে বেশি বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
  • নফল রোজা আপনি সারা বছর রাখতে পারেন অথবা বছরে ১ থেকে ২ দিনও রাখতে পারেন।
  • নফল রোজা করলে অনেক বেশি সওয়াব পাবেন এবং রোজা থাকার অভ্যাস গড়ে উঠবে।
  • নফল রোজা বেশি বেশি করা উচিত এবং এর সাথে সাথে কোরআন তেলাওয়াত করবেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করবেন। তাহলে আল্লাহ তায়ালা সকল দোয়া কবুল করে নেবেন। 
  • এছাড়াও নফল রোজা করলে যে সকল ছোটখাটো বিপদ আপদ এবং রোগ ও পাপ রয়েছে সেগুলো থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। ,,ইনশাল্লাহ,,

৩০ রোজা পূরণ করলে জান্নাতের বাণী

রমজান মাসের ৩০ টা রোজা পূরণ করলে মুসলিমদের জন্য এক মহান পুরস্কার রয়েছে। আর এই পুরস্কার মহান আল্লাহতালা নিজেই দেবেন। এছাড়াও রোজা রাখা ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশের বিশেষ সুযোগ পাবে। আবার রমজান মাসে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ৩০ টি রোজা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে সে সকল রোজাদার ব্যক্তি রাইয়ান নাম দরজা দিয়ে জান্নাতের প্রবেশ করবে, যা শুধুমাত্র রোজাদারদের জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করা মুসলিমদের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা ও পুরস্কার যা তাদের রোজা রাখার কঠিন পরিশ্রমের ফলস্বরূপ অর্জিত হয়। ৩০ টি রোজা পূরণের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তিরা আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্ট লাভ করে।

এছাড়াও রোজা রাখার মাধ্যমে তার সারা জীবনের সকল গুনাহ মাফ করা হয়। মূলত রোজা জান্নাতের পথকে প্রশান্ত করে এবং এক ধাপে তাকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে। তবে ৩০ টি রোজা পালনকারী ব্যক্তি শুধু যে জান্নাতে প্রবেশ করবে তা নয়, তারা আল্লাহতালার কাছ থেকে বিশেষ ধরনের পুরস্কার ও অর্জন করবে যা অন্য কোন ব্যক্তি পাবে না, আর এই পুরস্কারটি মহান আল্লাহ তা'আলা নিজেই দেবেন। তাই রোজা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা রোজাকে আল্লাহতালা ফরজ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটি আমাদের প্রত্যেকটি মুসলমানের দায়িত্ব এবং কর্তব্য আর এর ফলস্বরূপ আল্লাহ নিজের হাতেই মুমিনদেরকে দেবেন। ৩০ টি রোজা করার মাধ্যমে মুমিন জান্নাতে এবং এক স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। যেখানে তারা কোন কষ্ট বা দুঃখের সম্মুখীন হবে না এবং সেখানে তাদের সবকিছু চাওয়া পূরণ হবে।

রোজার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও মুমিনের উচিত

সাধারণত রোজা রাখার মাধ্যমে মুমিনরা ক্ষুধা পিপাসা সহ্য করার ধৈর্য ও সহানুভূতি এবং মনোবল বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা লাভ করেন। আর এটি সমাজের দুর্বল ও অসহায় এবং দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতির শিক্ষা দেয়। এছাড়াও রোজা রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম ব্যক্তি তার সমস্ত ভুল ত্রুটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে এবং নিজেকে শুদ্ধ করতে সক্ষম হন। আবার আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন, আর এটা একজন মুসলিম এর অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তার মনকে ঈমানী শান্তিতে পরিপূর্ণ করে। এছাড়াও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের সঠিক পথে পরিচালনা করে।

রোজা বা সিয়াম মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ যা একজন মুসলিম ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির পথপ্রদর্শন। রোজা রাখার মাধ্যমে মুসলমানরা শুধু যে শারীরিক খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকে তা নয়, বরং একজন মুমিন ব্যক্তির মন, চিন্তা ও আচার  আচরণেও শুদ্ধতা আনে। 

রমজান মাসে ৩০ রোজার ধর্মীয় তাৎপর্য

রমজান মাসের ৩০ টি রোজার ধর্মীয় তাৎপর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা রমজান মাস হল সেই মাস যেই মাসে মন আল্লাহ তাআলা কুরআন নাযিল করেছিলেন। রমজান মাস হল মুসলিমদের জন্য একটি বিশেষ সময় সেই সময় প্রতিটি মুসলমান রোজা পালন করার মাধ্যমে তারা তাদের নিজেদের আধ্যাত্মিক আত্মাকে শুদ্ধ করে, এবং মহান আল্লাহ তাআলার  নিকট্য লাভ করেন। রমজান মাসের ৩০ টি রোজা করার মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের আত্মবিশ্বাস ও নৈতিকতা লাভ করেন। এছাড়া মহান আল্লাহতালা  বলেন, হে বিশ্বাসী মুমিনগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন, পূর্ববর্তী জাতির ওপরও ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা আমার পরহেজগারী অর্জন করতে পারো। 

আরও পড়ুন: সেহরিতে যেসব খাবার স্বাস্থ্য ঠিক রাখবে - ইফতারে যেসব খাবার শরীর সুস্থ রাখবে

রোজা মুমিনগণকে দানশীল ও সহানুভূতিশীল হতে শিক্ষা দেয়। কারণ রোজা রেখে একজন মুমিন ব্যক্তি সমাজের অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। এছাড়াও ৩০ টি রোজা পালন করার মাধ্যমে সকল মুসলিমগণ ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করে তাদের আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়, যা এক ধরনের প্রশিক্ষণ। রোজা মুসলিমগণকে এই শিক্ষা দেয় যে, মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

শেষ কথা

প্রিয় ভিউয়ার্স,,, আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মূল আলোচনার বিষয় ছিল ৩০ রোজার ফজিলত দলিলসহ - রমজানের ৩০ দিনের ৩০টি ফজিলত সম্পর্কে। আমরা যদি রমজান মাসে ৩০টি রোজা পালন করি তাহলে ভালো সুফল পাব, এবং রোজা থাকার  কারণে মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে রোজা রাখল তার  পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। 

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরকেউ ৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ - রমজানের ৩০ দিনের ৩০টি ফজিলত সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিন। এরকম ইসলামিক এবং তথ্যমূলক পোস্ট নিয়মিত পড়তে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। এতক্ষণ পর্যন্ত সময় দিয়ে  আজকের পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শাকিল বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url